অনলাইনে ব্যবসার প্রসার ঘাটাতে সেরা কৌশল | অনলাইনে ব্যবসা করার নিয়ম

By | January 13, 2021

আজ আমরা সেরা ছয়টি ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল সম্পর্কে জানবো ।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর এই কৌশলগুলোর মাধ্যমে আপনি কীভাবে আরও বেশি গ্রাহকদের কাছে  আপনার পণ্য বা সেবা পৌঁছাতে পারেন এবং অনলাইন থেকে আপনি কিভাবে  আরও বেশি উপার্জন করতে পারেন সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে আজ বিস্তারিত আলোচনা করবো। তাহলে শুরু করা যাক অনলাইনে ব্যবসা করার নিয়ম তথা অনলাইনে ব্যবসার প্রসার ঘাটাতে সেরা কৌশল। প্রথমেই যে বিষয়টি আসে তা হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (এসইও)।

১। সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (এসইও)

ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম একটি প্রধান অংশ হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (এসইও)। সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন, বা এসইও হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোন ওয়েব সাইট সার্চ রেজাল্টের প্রথমে আসে। পুরো পৃথিবীতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ওযেব সাইট তৈরি হচ্ছে কিন্তু সার্চ ইন্জিনগুলো সেই ওয়েব সাইটগুলোকে ততক্ষন পর্যন্ত আমাদের সামনে আনবে না যতক্ষন পর্যন্ত না সেই সাইটগুলোকে ভালোভাবে অপটিমাইজ করা হবে। 

 এসইও দুটি বিভাগে বিভক্ত : অন-পেইজ এবং অফ-পেইজ এসইও।

অন পেইজ এসইও বলতে ওয়েবসাইটের ভেতরে করা যে কোনো অপ্টিমাইজেশন বোঝায়। এটি আপনার সাইটের সার্চ রেঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত একটি সাইটের রেঙ্ক করার ৭০ ভাগ নির্ভর করে অন পেইজ এসইও এর উপর। আপনার সাইটের ইউআরএল, টাইটেল এবং টাইটেলে ব্যবহৃত কীওয়ার্ড, ইমেজের অল্টার ট্যাগ ইত্যাদি অন পেইজ অপটিমাইজেশনের মধ্যে পরে। 

অন্যদিকে অফ-পেইজ এসইও বলতে আপনার ওয়েবসাইট এর বাইরের অপ্টিমাইজেশানকে বোঝায়। এখানে প্রাথমিকভাবে অন্যান্য নামীদামী সাইটগুলি থেকে ফোরাম পোষ্ট, গেষ্ট পোস্ট, ব্লগ পোস্ট, ওয়েব ২.০ ইত্যাদির মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে ব্যাকলিংক পাওয়াকে বোঝায়। 

অন পেইজ এবং অফ-পেইজ এসইও উভয়ই আপনার সাইটের সার্চের ফলাফলগুলিতে সার্চ ইন্জিনের প্রথম পেইজে রেঙ্ক পেতে সাহায্য করতে পারে যার ফলস্রুুতিতে আপনি আপনার প্রোডাক্ট বা সেবাকে অধিক গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারেন এবং অনলাইন থেকে আরও বেশি উপার্জন করতে পারেন।  

২। পে, পার, ক্লিক (পিপিসি) বিজ্ঞাপন

সহজভাবে বলতে গেলে পে, পার, ক্লিক (পিপিসি) হচ্ছে সার্চ ইন্জিনকে টাকা দিয়ে সার্চ রেজাল্টে আপনার সাইটকে প্রথমে নিয়ে আসা, আপনি নির্দিষ্ট কীওয়ার্ডকে সার্চ ইঞ্জিনের স্পনসরড লিঙ্কগুলিতে বসানোর জন্য বিড করবেন। যদি আপনার বিড কোনও প্রদত্ত কীওয়ার্ডের জন্য সর্বাধিক হয় তবে ব্যবহারকারীরা সার্চ বারে সেই কীওয়ার্ডটি টাইপ করলে আপনার বিজ্ঞাপনটি প্রথমে উঠে আসবে।

 ইন্টারনেট মার্কেটিং কৌশল হিসাবে পিপিসির একটি সুবিধা হল আপনার বিজ্ঞাপনগুলি লাইভ যেতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়না।  মুহূর্তের মধ্যে আপনার সাইটে প্রাসঙ্গিক, টারগেটেট ট্র্যাফিক প্রেরণ শুরু হবে।

পিপিসি আপনার জন্য তখনই লাভবান হবে যখন আপনি টারগেটেট ট্রাফিকের কাছে পৌছাতে পারবেন।

৩। কন্টেন্ট মার্কেটিং

অনলাইন থেকে নতুন লিড জেনারেট করার জন্য কন্টেন্ট মার্কেটিং অন্যতম কার্যকর উপায়। এটি ইনফোগ্রাফিক্স, ব্লগ পোস্ট, ইবুকস, গাইড এবং অন্যান্য মূল বিষয়বস্তুর সাথে জড়িত। মানুষকে সহজে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে জানানোর জন্য আপনি ফটো এবং ভিডিওগুলির মতো ভিজ্যুয়াল কন্টেন ব্যবহার করতে পারেন।

অনলাইন মার্কেটগুলোতে অনেক কলাকৌশল অবলম্বন করতে হয় তার মধ্যে কন্টেন্ট মার্কেটিং অনেক জনপ্রিয়।কারন ব্যবসার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে,ব্যবসা বাড়াতে, ক্রেতা ধরে রাখতে,অন্য যেকোনো পদ্ধতির চাইতে কন্টেন্ট মার্কেটিং অনেক বেশী কার্যকর। কনটেন্ট মার্কেটিং করতে ভালো কনটেন্ট প্রয়োজন হবে। পন্য কিংবা সেবাকে কেন্দ্র করে দরকারী ও গুরত্বপূর্ণ তথ্য সমৃদ্ধ কনটেন্ট তৈরি করে তার বিভিন্ন কৌশলে পাঠকের কাছে পৌছে দেয়ার পর পাঠকে কন্টেণ্টের সাথে সম্পৃক্ত করাই কন্টেন্ট মার্কেটিংয়ের উদ্দেশ্য। ভিডিও, ছবি, টুইট, ই-বুক, ইনফোগ্রাফি ইত্যাদি কন্টেন্ট এর মাধ্যমে একজন ভোক্তাকে সহজে প্রভাবিত করা যায় কন্টেন্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমে।

৪। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে অনলাইনে ব্যবসা প্রসারের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ন মাধ্যম। আপনি আপনার কাঙ্খিত ট্রাফিক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সহযেই পেতে পারেন। 

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি বজায় রাখার মাধ্যমে আপনার কোম্পানীটিকে বর্তমান এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারে, এটি অবশ্যই অনলাইন-মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসাবে ব্যবহার করা উচিত।

অনলাইনে আপনার ব্যবসা প্রসারের জন্য সোসাল মিডিয়ার উদাহরণ

আপনি আপনার কাঙ্খিত ভিজিটরদের একত্র করতে, তাদেরকে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতে, এবং এমন সম্পর্ক বিকাশ করতে ব্যবহার করতে পারেন যা তাদের কেনার জন্য উত্সাহ দেয় । কারও কাছে যদি আপনার ব্যবসায় সম্পর্কে প্রশ্ন থাকে তবে তারা আপনার সাথে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে এবং আপনি তাদের আপনার কোম্পানি বা প্রোডাক্ট সম্পর্কে বলতে পারেন। 

জুম আইটি আপনাকে ফেসবুক, টুইটার, পিনট্রেস্ট, ইউটিউব, লিংকডইন, ইনস্টাগ্রাম, টাম্বলারসহ আরও অনেক সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলিতে প্রোফাইল তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। আমাদের কাছে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর দক্ষ একটি অভিজ্ঞ দল যা আপনার ব্যবসাকে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

অনলাইন মার্কেটিং টিপস ও ট্রিকস জানতে এইখানে ভিজিট করুন

৫। ইমেল মার্কেটিং 

ইমেল মার্কেটিং আপনাকে লোকদের সাথে সরাসরি তাদের ইনবক্সে যোগাযোগ করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। এবং এটি আপনাকে একটি অবিশ্বাস্য রিটার্ন জেনারেট করার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে – আপনার ব্যয় করা প্রতি $ 1 এর জন্য আপনার 44 ডলার আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে এখানে।

 ইমেইল মারর্কেটিং এর মাধ্যমে বিপণন কৌশল উদাহরণ

জুম আইটির এর ইমেল মার্কেটিং প্যাকেজটি সহজেই ব্যবহারযোগ্য । এখানকার টেম্পলেটগুলি সরবরাহ করে  আপনি আপনার ব্যবসায়ের প্রয়োজন অনুসারে সহজেই কাস্টমাইজ করতে পারেন। ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ ডেটার এক্সেস আপনাকে দেওয়া হবে যা পরবর্তীতে আপনি কাজে লাগাতে পারবেন।  

উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ এসইও সম্পর্কে কোনও গাইড ডাউনলোড করেন তবে আপনার পরিষেবাগুলি সম্পর্কে আরও জানানোর জন্য তাদের অনুসরণ করে সহায়ক তথ্য পাঠাতে পারেন।

ইমেল হল বর্তমান এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ রাখার এবং তাদের আপডেটগুলি সরবরাহ করার একটি দুর্দান্ত উপায় যাতে তারা আপনার ব্যবসার বিষয়ে জানতে পারে।

৬। ওয়েব ডিজাইন

অন-লাইন মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ওয়েব ডিজাইনও অনেক গুরুত্ব বহন করে। একটি ভালো ডিজাইন আপনার ওয়েবের ভিজিটরদের আপনার পেইজে ধরে রাখতে সহায়তা করে। 

অনেক সময়, আপনার ওয়েবসাইটটি আপনার ব্যবসা এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের মধ্যে সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে। আপনার ওয়েব সাইটটি আপনার গ্রাহকদের কাছে যতবেশি বিশ্বাশযোগ্য মনে হবে আপনার পোডাক্ট ততবেশি বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। 

একটি ভালো ওয়েব ডিজাইন আপনার ব্যবসাকে আরও বেশি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে এবং অনলাইনে আরও বেশি উপার্জন করতে সহায়তা করতে পারে। একটি সুন্দর ডিজাইন এবং নেভিগেশন আপনার সাইটে ব্যবহারকারীর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বৃদ্ধি করতে পারে এবং ভিজিটর থেকে তাদের গ্রাহকে রুপান্তরিত হতে সহায়তা করতে পারে।

 ওয়েব ডিজাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট বিপণন কৌশল, উদাহরণ

আপনার সাইটটি যদি ভালভাবে ডিজাইন করা থাকে তবে মানুষ আপনার সাইটটি পড়বে এবং আপনার ব্যবসায় সম্পর্কে আরও বেশি সময় ব্যয় করবে। এটি তাদের গ্রাহক হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে এবং এটি সার্চ ইঞ্জিনগুলিতে ইতিবাচক সংকেত প্রেরণ করে, যা সার্চ ফলাফলগুলিতে আপনার ব্যবসাকে প্রথমে প্রদর্শিত করতে সহায়তা করে।

জুম আইটির ওয়েব ডিজাইন সার্ভিসগুলো একদম আপনার চাহিদামতো – সুতরাং আপনি যখন আমাদের সাথে অংশীদার হবেন তখন আপনার ব্যবসায় অন্যরকম এক মাত্রা যোগ করতে পারবে বলে আশা রাখি।

One thought on “অনলাইনে ব্যবসার প্রসার ঘাটাতে সেরা কৌশল | অনলাইনে ব্যবসা করার নিয়ম

  1. Pingback: ইন্টারনেট মার্কেটিং কি? ইন্টারনেট মার্কেটিং এর সুবিধাগুলো কি কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *