বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন

By | December 12, 2020

আপনি কি ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন?  তাহলে স্বভাবতই আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে কিভাবে ই কমার্স ব্যবসায় শুরু করব বা ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার স্টেপ গুলিই বা কি? আমরা আজকের এই আর্টিকেলে বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন বিষয়ে সম্পূর্ণ একটি স্টেপ বাই স্টেপ দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করব । যাতে করে আপনি খুব সহজেই একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবং আপনার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট করতে যা যা প্রয়োজনীয় হবে সেসব বিষয়ে একটি সুন্দর ধারণা নিতে পারেন ।

বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন

ও তার আগে আমাদের পরিচয়টা একটু দিয়ে নেই আমরা বর্তমানে বাংলাদেশে একটি প্রসিদ্ধ ওয়েবসাইট ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিআমরা বিগত চার বছর যাবৎ সুনামের সাথে বিভিন্ন কাস্টমারের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে আমরা বিভিন্ন সার্ভিস সাইট, ই কমার্স সাইট থেকে শুরু করে সকল ধরনের ওয়েবসাইট তৈরী করে থাকি। আমাদের সার্ভিসগুলো সম্পর্কে জানতে এই পোস্টটি পরে আসতে পারেন। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গাইডলাইন।

ই কমার্স কাকে বলে? 

চলুন প্রথমেই জেনে নেই ই-কমার্স কাকে বলে? ই-কমার্স কাকে বলে এটা জানা জরুরী এজন্য যে আসলে এই বিজনেসটা কি বা কাকে বলে বা ই কমার্স কিভাবে কাজ করে সেটা না জানলে আমরা কিন্তু বিজনেসটা ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবোনা।

ই-কমার্স মূলত বৈদ্যুতিক বাণিজ্য বা ইন্টারনেট বাণিজ্য নামে পরিচিত । যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে পণ্য ক্রয় বিক্রয় করা হয় এবং টাকা বা তথ্যের আদান-প্রদান হয়ে থাকে । ই-কমার্সে মূলত ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে । কিন্তু অন্য অর্থে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রক্রিয়াকেই ই-কমার্স বলা হয়ে থাকে।

মূলত ই বিজনেস বলতে অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা কে বুঝায় এবং ই-কমার্স বলতে অনলাইনে পণ্য অথবা সেবার আদান-প্রদানকে বুঝায় ।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে ই কমার্স ব্যবসা করতে গেলে আপনার কি কি জিনিস দরকার হবে । প্রথমত আপনার যেই জিনিসটি দরকার পড়বে সেটি হচ্ছে আপনার একটি পণ্য অথবা সেবা যেটি আপনি অনলাইনে বিক্রি করবেন । আর দ্বিতীয় যে আবশ্যকীয় বিষয়টি লাগবে সেটি হচ্ছে আপনার পণ্য অথবা সেবা অনলাইনে বিক্রির জন্য একটি ওয়েবসাইট।

আমরা ইতিমধ্যেই জেনে গেলাম একটি সফল ই-কমার্স বিজনেস পরিচালনা করতে আমাদের দুটো জিনিসের প্রয়োজন প্রথমটি পণ্য অথবা সেবা যা ইতিমধ্যে আপনার কাছে মজুদ আছে আর দ্বিতীয় যে জিনিসটা দরকার সেটি হচ্ছে একটি সুন্দর ওয়েবসাইট।

যেখানে আপনার পণ্য অথবা সেবারখুব সুন্দর বর্ণনা দেওয়া থাকবে এবং গ্রাহক চাইলেই সেখান থেকে অর্ডার করতে পারবেন।এখন আপনার মনে স্বভাবতই প্রশ্ন আসতে পারে ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা লাগে বা  বাংলাদেশ ভালো ওয়েবসাইট তৈরির প্রতিষ্ঠান কোথায় এবং কিভাবে খুজে পাব? 

জি আমরা এই পোস্টের শুরুতেই আপনাকে বলেছি আপনার একটি সফল ই- কমার্স বিজনেস দাঁড়া করাতে আর যা যা প্রয়োজন আমরা এই পোস্টে সে বিষয়ে স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করবো ।তাই আপনার চিন্তা করার কোন দরকার নেই ।

এই পোস্টটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি জানতে পারবেন অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট তৈরি করতে খরচ এবং বাংলাদেশে ভালো ওয়েবসাইট তৈরির প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে। পাশাপাশি ওয়েবসাইট তৈরি করার সময় বিবেচ্য বিষয় কোনটি? তা নিয়েও আমরা এই পোস্টে আলোচনা করবো।

আর্থিক এবং মানসিক প্রস্তুতি

ই কমার্স ব্যবসা শুরু করার আগে আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি মানসিক এবং আর্থিক ভাবে প্রস্তুত কি না? কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ই কমার্স ব্যবসা একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যবসা । অলরেডি বাংলাদেশের মার্কেটে দারাজ ইভ্যালি পিকাবো আজকেরডিল সহ অনেক ছোট বড় কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই এই মার্কেটে টিকে থাকতে হলে আপনার যথেষ্ট মানসিক এবং আর্থিক সাপোর্ট প্রয়োজন হবে । ব্যবসায়ের চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তগুলো কিভাবে ওভারকাম করে মার্কেটে টিকে থাকবেন এবং ব্যবসাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন সেই বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে ।

প্রডাক্ট রিসার্চ

বাংলাদেশের ই কমার্স একটি লাভজনক ব্যবসা । বাংলাদেশের মার্কেট যেমন বড় মার্কেটে প্রতিযোগিতাও আছে তাই আপনাকে ব্যবসা শুরুর আগে বিভিন্ন পণ্যের গুণগত মান, দাম এবং ক্রেতাদের মনস্তাত্ত্বিক দিক বিবেচনায় রাখতে হবে । প্রডাক্ট রিসার্চ এর ক্ষেত্রে দেখতে হবে আমি যে প্রডাক্টগুলো নিয়ে কাজ করব সেটির মার্কেট প্রাইস কেমন অন্যান্য সেলার এটি কি দামে বিক্রি করছে এবং বাজারে এর চাহিদা কেমন? বা আমি যে প্রডাক্টগুলো নিয়ে কাজ করব সেখানে বড় বড় ই-কমার্স সাইট গুলোর সাথে কম্পিটিশন করার মত সামর্থ্য আমার আছে কিনা?এসব দিক বিবেচনা করে প্রোডাক্ট সিলেকশন করতে হবে ।

প্রতিষ্ঠানের নাম এবং ডোমেইন হোস্টিং নির্বাচন

প্রতিষ্ঠানের  আসল পরিচয় হলো তার নাম । নাম দিয়েই মানুষ আপনার প্রতিষ্ঠানকে চিনবে এবং একসময় এই নামটি একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হবে তাই প্রতিষ্ঠানের নাম নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে মিলিয়ে ডোমেইন নেম নির্বাচন করাও জরুরি যেহেতু এটি একটি অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান তাই প্রতিষ্ঠানের নাম এবং ডোমেইন নাম এক হওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি আপনাকে কিছু আইনি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যেমন আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেড লাইসেন্স করা এবং ট্রেডমার্ক ইস্যুগুলোর সমাধান করা যেমন আপনি যদি আপনার নামটি ট্রেডমার্ক করতে চান তাহলে কপিরাইট অফিসে গিয়ে সেটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি জমা দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে । যাতে ভবিষ্যতে আপনার প্রতিষ্টানের নাম নকল করে কেউ কোন প্রতিষ্ঠান করতে না পারেন ।

ডোমেইন এবং কোম্পানি নাম সিলেকশন এরপর আপনার যে কাজটি করতে হবে তা হল একটি ভালো ডোমেইন এবং হোস্টিং প্রোভাইডার এর কাছ থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং রেজিস্ট্রেশন করতে হবে । আপনি চাইলে নিজেও Name Cheap GO Daddy ওয়েবসাইট থেকে ডোমেইন কিনতে পারেন । 

হোস্টিং নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হচ্ছে আপনার কাস্টমার বেইস কত, প্রতি দিন বা প্রতি মাসে কি পরিমাণ ট্রাফিক আপনি আপনার সাইটে প্রেরন করতে পারবেন বা আপনার সক্ষমতা কতটুকু তার ওপর ভিত্তি করে আপনাকে হোস্টিং নির্বাচন করতে হবে ।  এক্ষেত্রে শেয়ার্ড হোস্টিংএভোয়েড করাই উত্তম  তা না হলে একসাথে যখন অনেকগুলো ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে তখন সাইট ডাউন হয়ে যেতে পারে ।  তাই আপনার জন্য ডেডিকেটেড হোস্টিং সার্ভার হলেই ভালো হয় । এক্ষেত্রে লিনাক্স,ভিপিএস কিংবা ক্লাউড সার্ভার হতে পারে আপনার জন্য প্রথম চয়েজ ।

বাংলাদেশের সেরা ওয়েবসাইট তৈরির প্রতিষ্ঠান

আপনি দুইভাবেই আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। প্রথমত কোন মার্কেটপ্লেস থেকে ভালো ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে তাদের মাধ্যমে ওয়েবসাইট তৈরী করে নিতে পারেন অথবা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো থেকে আপনি তাদের ওয়েবসাইট মেকিং সার্ভিস গ্রহণ করতে পারেন ।

ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে । আপনারা জানেন সম্প্রতি বাংলাদেশে আইসিটি সেক্টরে অনেক উন্নতি সাধন করেছে । হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার ঘরে বসে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করছে তারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এবং নিজস্ব উদ্যোগে তাদের স্কিল ডেভেলপ করছে।

আপনি যদি একজন বিগেনার লেভেল এর লোক অর্থাৎ ওয়েব সাইটের বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে আপনার ধারণা একদমই শূন্য থাকে তাহলে মার্কেটপ্লেস থেকে ফ্রিল্যান্সার হায়ার না করে আপনি সরাসরি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সার্ভিসটি নিতে পারেন । কারণ তাদের অফিসে গিয়ে সরাসরি কথা বলে তাদের সার্ভিস সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে সার্ভিস নেওয়াটাই আপনার জন্য উত্তম হবে ।

আর তাই আমরা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি আমাদের অফিসে । Zoomit বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি আমরা অত্যন্ত সুনামের সাথে চার বছর যাবত আমাদের সার্ভিসটি পরিচালনা করে আসছি । বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠিত বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানি আমাদের ক্লায়েন্ট এবং তারা সকলেই আমাদের সার্ভিসে সন্তুষ্ট

আমাদের ই-কমার্স ওয়েবসাইট মেকিং সার্ভিস গুলো দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ওয়েবসাইট তৈরির কথা মাথায় আসলে ছোট বিজনেস ওনার বা যারা নতুন স্টার্টআপ শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের আরেকটি চিন্তার বিষয় হলো ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা লাগে বা ওয়েবসাইট তৈরি করতে খরচ কত? বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে একটা কথা প্রচলিত আছে যত গুড় তত মিঠা অর্থাৎ আপনি যে পরিমাণ ইনভেস্ট করবেন আপনি ঠিক সেই রকমই আউটকাম পাবেন । আপনার যদি যথেষ্ট পরিমাণে বাজেট থাকে তাহলে আপনি খুব ভালো মানের হাই স্পিড, সিকিউরিটি সম্পন্ন সাইট তৈরী করে নিতে পারবেন ।বাংলাদেশের সাধারণত খুব ভালো মানের ওয়েবসাইট সেবাদান প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বনিম্ন প্যাকেজগুলো শুরু হয় ২০ বা ২৫ হাজার থেকে । আপনার বাজেট যত বাড়বে বা আপনার চাহিদা যত বেশি হবে তার ওপর খরচ নির্ভর করবে ।

মার্কেটিং

উপরের কাজগুলো ঠিকঠাক করতে পারলে এবার আপনার প্রধান কাজ হবে মার্কেটিং  আপনি মূলত দুই ভাবে মার্কেটিং করতে  পারেন

 ১। অনলাইন মার্কেটিং 

২। অফলাইন মার্কেটিং

মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেই আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারবেন বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে আপনাকে অবশ্যই খুব ভালোভাবে মার্কেটিং করতে হবে মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেই  আপনি আপনার পন্যের গুণগত মান এবং সার্ভিস সম্পর্কে গ্রাহকের সামনে তুলে ধরতে পারবেন । চলুন জেনে নেই অনলাইন এবং অফলাইন মার্কেটিং এর বিস্তারিত : 

অনলাইন মার্কেটিং : অনলাইন মার্কেটিং বর্তমান সময়ে খুবই ইফেক্টিভ এবং জনপ্রিয় 

এর মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার কাঙ্খিত কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন ।  অনলাইন মার্কেটিং আবার দুই প্রকার, ফ্রি মার্কেটিং এবং পেইড মার্কেটিং ফ্রি মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আপনি আপনার কোম্পানির ফেইসবুক পেইজ, টুইটার, লিঙ্কডইন কিংবা ইউটিউব ভিডিও মার্কেটিং করতে পারেন ।এই সবগুলো প্লাটফর্মেই আপনি আবার পেইড এড রান করতে পারেন যার মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার টার্গেট অডিয়েন্স এর কাছে পৌঁছতে পারবেন ।

তাছাড়া আপনার প্রোডাক্ট রিলেটেড বিভিন্ন ব্লগ আর্টিকেল লিখে সেগুলো আপনার সাইটে পাবলিশ করতে পারেন এবং সেগুলো প্রপার এসইও করে গুগলের টপে আনা গেলে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন থেকে সরাসরি আপনার প্রোডাক্ট রিলেটেড ভিজিটর পেতে পারেন। 

অফলাইন মার্কেটিং: অফলাইন মারকেটিং বলতে আমরা মূলত ফিজিক্যাল মার্কেটিংকে বুঝি যেমন আপনার পন্যে সম্পর্কিত বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ জায়গায় জায়গায় ব্যানার ফেস্টুন লাগানো বা পোস্টারিং করা ইত্যাদি । আপনার মার্কেটিং এর ধরন নির্ভর করবে মূলত আপনার বাজেটের ওপর। 

সম্পূর্ণ নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে যেহেতু আপনার মার্কেটিং করতেই হবে তা না হলে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত কাস্টমারদের কাছে পৌঁছতে পারবেন না সেটা অনলাইনে কিংবা অফলাইনে যেখানেই হোক,তাই মার্কেটিং এর জন্য আপনার একটা আলাদা বাজেট নির্ধারণ করতে হবে ।

পেমেন্ট এবং ডেলিভারি সিস্টেম

আপনার ই-কমার্স সাইটে বাংলাদেশে প্রচলিত অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম থাকতে হবে যাতে করে গ্রাহক তার পছন্দমতো মাধ্যমে পণ্য অর্ডার করার সাথে সাথে পেমেন্ট দিতে পারে । এছাড়াও ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেম চালু থাকতে হবে যাতে করে সে পণ্য অর্ডার করে ডেলিভারি নেওয়ার সময় পেমেন্ট সম্পন্ন করে প্রডাক্টটি বুঝে নিতে পারে । বাংলাদেশে এখন অনেক ই-কুরিয়ার সার্ভিস প্রচলিত আছে যারা ক্যাশ অন ডেলিভারি দিয়ে থাকে । প্রোডাক্ট ডেলিভারির দুই থেকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে আপনি আপনার কাঙ্খিত পেমেন্ট আপনার ব্যাঙ্ক অথবা বিকাশ একাউন্টে পেয়ে যাবেন।প্রোডাক্ট ডেলিভারির ক্ষেত্রে ভালো কুরিয়ার নির্বাচন করতে হবে যাতে করে আপনি এবং আপনার গ্রাহক প্রডাক্ট ট্রাকিং করতে পারেন, প্রোডাক্ট কখন কোথায় অবস্থান করছে সেটা জানতে পারলে গ্রাহক নিশ্চিন্ত থাকবে ।

আফটার সেলস সার্ভিস বা কাস্টমার সাপোর্ট

বাংলাদেশে একশ্রেণীর কুচক্রী মহল বিভিন্ন অনলাইন ই কমার্স ব্যবসার নাম করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে । এসব থেকে মানুষকে মুক্ত রাখতে আপনার অবশ্যই একটি ভালো কাস্টমার সার্ভিস ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে করে পণ্য ক্রয়ের পর কোন ধরনের সমস্যা হলে গ্রাহক আপনার কাস্টমার কেয়ারের সাথে কথা বলে প্রডাক্ট ফেরত বা পরিবর্তন করতে পারে।

মনে রাখবেন সব শেষে কিন্তু আপনার গ্রাহকই আপনার মূলধন আপনি যদি আপনার একটা গ্রাহকের কাছে ভালো সার্ভিস প্রোভাইড করে সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন তাহলে কিন্তু সে নিজেই আপনার মার্কেটিং করে দিবে তার বন্ধু-বান্ধব বা আশপাশের মানুষজন কে সে আপনার সার্ভিস সম্পর্কে অবগত করবে ।এবং এভাবেই একদিন ধীরে ধীরে আপনি একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডে পরিণত হবেন ।

সর্বশেষ

আপনারা জানেন সম্প্রতি COVID-19 পরিস্থিতির কারণে এবং সবার হাতে হাতে মোবাইল এবং ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ ডিজিটাল সেবা গ্রহণে অনেক আগ্রহী । বাংলাদেশ একটা বিপুল সংখ্যক জনগণের দেশ এখানে মানুষের চাহিদার শেষ নেই আপনি যদি ভাল সার্ভিস, ভালো পণ্য নিয়ে মার্কেটে আসতে পারেন এবং নিত্য নতুন পন্থায় মার্কেটিং করে মানুষের মাঝে আস্থা অর্জন করতে পারেন তাহলে আপনি অবশ্যই ই-কমার্স বিজনেস এ সাকসেস অর্জন করতে পারবেন ।

আশাকরি আমাদের এই ই-কমার্স বিজনেস শুরুর গাইডলাইন বিষয়ক পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে । এর মাধ্যমে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত ই কমার্স কাকে বলে,অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট তৈরি করতে খরচ,ওয়েবসাইট তৈরি করার সময় বিবেচ্য বিষয় কোনটি? এসব বিষয়ে একটি ভাল ধারণা পেয়েছেন যা আপনার ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে সাহায্য করবে । আরো কোন বিষয়ে জানতে চাইলে আমাদেরকে কমেন্ট বক্সে জানান আমরা চেষ্টা করব সে বিষয়ে আমাদের সাইটের কনটেন্ট পাবলিশ করতে  ।

ধন্যবাদ,আপনাদের জন্য শুভকামনা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *