ওয়েবসাইট বানানোর খরচ

আপনি কি আপনার ব্যবসা- বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য যে কোন সামাজিক কাজের প্রচার ও প্রসারের জন্য এবং সহজেই আপনার কাঙ্খিত গ্রাহক অথবা শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট পৌঁছাতে ওয়েবসাইট বানাতে চাচ্ছেন? তাহলে প্রথমেই আপনার যে চিন্তাটি মাথায় আসবে তা হলো ওয়েবসাইট বানানোর খরচ কত ? আমরা আজকের পোস্টে সে বিষয়েই আলোচনা করবো ইনশা আল্লাহ। এই পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন আশা করি ওয়েবসাইট বানানোর খরচ এবং এর গাইডলাইন সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 ওয়েবসাইট কি :

আপনি এখন যে পেইজ এর মাধ্যমে যেভাবে এই লেখাটি পারছেন সহজ কোথায় এটিরে সমষ্টিই একটি ওয়েবসাইট।  অন্য কোথায় ওয়েবসাইট বলতে বুঝায় ওয়েব সার্ভারে রাখা অনেক তথ্যের একক সমষ্টি যেখানে অডিও, ভিডিও, ছবি কিংবা লেখার পৃষ্ঠা থাকে।  কোন ব্যক্তি যখন উক্ত বিষয়ে কোন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে বা সরাসরি তার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এড্রেসের মাধ্যমে ব্রাউস করে তখন উক্ত ব্যক্তির সামনে তথ্য করে তা প্রকাশ করে।

বর্তমান সময়ে ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয়তা :

আধুনিক ইন্টারনেটের যুগে সবকিছুতেই এসেছে প্রযুক্তির ছোয়া। স্মার্ট মোবাইল, ৩ জি কিংবা ৪ জি ইন্টারেন্টের প্রসারের ফলে এখন প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলেও মানুষ ইন্টারনেট ব্রাইউজিংয়ের সুবিধা পাচ্ছে।  আর এর ফলেই সমস্ত দুনিয়া যেন মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ব্যাবসা, বাণিজ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ সকল ক্ষেত্রেই মানুষ এখন ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল।  আর এই ইন্টারনেট এর উপর নির্ভরশীলতা মানুষের এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে খাবার, যোগাযেগ, বিনোদন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সকল কিছুই কোন না কোনভাবে ইন্টারনেটের সাথে জড়িত। এই যেমন দিনের একটা সময় অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক, ইউটিউব এ ব্যায় করে.তাছাড়া কোন তথ্য জানার জন্য বা কোন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বা সেবা গ্রহণের পূর্বেও ইন্টারনেটে সার্চ করে সেই পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাছাড়া বর্তমানে ই কমার্স এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। মানুষ এখন কিছু অর্থ ব্যয় করে হলেও ঘরে বসে ঝামেলাবিহীন সেবা নিতে আগ্রহী। যার ফলে   ক্রমেই বাড়ছে ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয়তা।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারলে আপনি অবশ্যই আপনার কম্পিটিটরদের থেকে পিছিয়ে যাবেন এবং আস্তে আস্তে লসের দিকে চলে যাবেন। আর তাছাড়া পণ্য বা সেবা প্রদানকে আরো সহজ ও সুন্দর করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে এবং সহজেই গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বর্তমান সময়ে ওয়েবসাইটের প্রয়জোনীয়তা অপরিসীম।

কিভাবে ওয়েবসাইট বানানো যায়

ওয়েবসাইট বানানোর কয়েকটি উপায় আছে. আপনি নিজে যদি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট জানেন তো নিজে তৈরী করতে পারেন। তা না হলে ফ্রিল্যান্সার ভাড়া করে তাদের দিয়ে আপনার চাহিদা অনুযায়ী ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে পারেন।  ফ্রিলেন্সারদের অনেক মার্কেটপ্লেস আসছে যেমন ফাইবার, আপওয়ার্ক, পিপল পার যাওয়ার, ফ্রিল্যান্সার ডট কম। তাছাড়া আরো অনেক মার্কেট প্লেস আছে যে জায়গা থেকে আপনি আপনার চাহিদামতো ফ্রিল্যান্সার হায়ার করতে পারেন তবে এক্ষেত্রে আপনার ঐসব মার্কেটপ্লেস একাউন্টে ডলার লোড করার মতো মাস্টার কার্ড বা পেপাল থাকতে হবে।  যা বাংলাদেশিদের জন্য একটা প্রতিবন্ধকতা। এর অনেকেই মার্কেটপ্লেস থেকে ফ্রিলেন্সার হায়ার করে কাজ করতে পারেনা। তাছাড়া আরেকটা সময় হলো ফ্রিলেন্সারদের সাথে যোগাযোগ করা বা তাদেরকে সঠিক ভাবে বুঝিয়ে সঠিক কাজ আদায় করে নেওয়া।  যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব না।

ওয়েবসাইট বানানোর সবথেকে ভালো এবং নির্ভযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে দেশীয় ডেভেলপমেন্ট কোম্পনি যারা ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস দিয়ে থাকে।  যাদের থেকে আপনি সহজেই আপনি কি চাচ্ছেন তা বুঝিয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইট বাণীতে নিতে পারবেন। যা বাংলাদেশিদের জন্য অনেক সহজ।  এই যেমন আমরা “জুম আইটি” বিগত পাঁচ যাবৎ অত্যন্ত গৌরব ও নিষ্ঠার সাথে দেশের অনেক নতুন স্টার্টআপ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পনির সাথেও কাজ করে আসছি।  তাদের ওবেস সাইট ডিজাইন থেকে শুরু করে ডেভেলপমেন্ট, ওয়েবসাইট ম্যানেজম্যান্ট ব্যবসার প্রসার ও মার্কেটিং এর কাজ করে আসছি। আপনি খুব সহজেই ও সাশ্রয়ী দামে আমাদের থেকে ওয়েবসাইট তৈরী করে নিতে পারেন।

 ওয়েবসাইট বানানোর খরচ :

এবার আসা যাক মূল বিষয়বস্তুতে। আপনি নিশ্চয় ওয়েবসাইট বানানোর খরচ সম্পর্কে জানতে ধৈর্য ধরে পুরো পোস্টটি পড়েছেন। যারা এই সেক্টরে নতুন তাদের কে অবশ্যই উপরের বিষয়গুলো পরিষ্কার ভাবে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি কারণ হুট্ করে কোথাও থেকে ওয়েবসাইট এর সার্ভিস নিতে গেলে প্রতারিতও হতে পারেন উক্ত বিষয়গুলো না জানা থাকলে।  আর উপরের বিষয়গুলো এই আটিকেলের মূল বিষয়বস্তুর সাথেও জড়িত। নিচে ওয়েবসাইট বানানোর খরচ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

#মার্কেটপ্লেস থেকে আপনি আওয়ারলি বা ঘন্টা প্রতি ফ্রিল্যান্সার হায়ার করতে পারেন বা প্রজেক্ট ভিত্তিক। যেমন মিডিয়াম লেভেলের ওয়ান ডেভেলপার ধোনটা প্রতি ১০ ডলার থেকে ২০/২৫ ডলার ও চার্জ করে থাকেন। তাছাড়া প্রজেক্ট ভিত্তিক ভাবে আপনার চাহিদার উপর নির্ভর করে ফ্রিল্যান্সাররা প্রাইস নির্ধারণ করে থাকে।  নরমালি ওয়ার্ডপ্রেস সাইট ডেভেলপমেন্ট এর জন্য মার্কেটপ্লেসে ৩০০ ডলার থেকে আরো বেশি প্রাইস চেয়ে থাকে।  কারণ তাদের আর্নিং এর একটা অংশ আবার মার্কেটপ্লেস তাদের পার্সেন্টেজ হিসেবে কেটে রাখে।  এছাড়া অন্যান্য সিএমএস বা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ দিয়ে একদম শূন্য থেকে তারা সাইট বিল্ড করে দিতে ১০০০ দলের থেকে আরো বেশি চার্জ করে থাকে।

দেশি এজেন্সি (Thezoomit.com) থেকে  ওয়েবসাইট বানানোর খরচ :

ওয়েবসাইট সার্ভিস নেওয়ার পূর্বে আপনাকে ঠিক করতে হবে  কোন  ধরণের ওয়েবসাইট বানাতে চাচ্ছেন। ওয়ার্ডপ্রেসে এক ধরনের প্রাইস এবং অন্য সিএমএস এ আরেক ধরণের প্রাইস।  যারা টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের বাইরের লোক তাদের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস সাইট ম্যানেজম্যান্ট করা সহজ।  কারণ এতে নানান ধরণের থিম এবং প্লাগিন ব্যবহার করে আপনার ইচ্ছামত সহজেই কাস্টমাইজেশন করে নিতে পারবেন। সাধারণত ওয়ার্ডপ্রেসে সাইট বানাতে আমরা “জুম আইটি” সর্বনিম্ন ১৫০০০ টাকা চার্জ করে থাকি।  বাকিটা আপনার চাহিদার উপর নির্ভর করবে।

এছাড়াও আপনার চাহিদার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন লেঙ্গুয়েজেও সাইট বানিয়ে নিতে পারেন। যেগুলোর দাম আপনার চাহিদা ডেলিভারির টাইমফ্রেম ইত্যাদি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। আপনার চাহিদামতো সাইটের দাম জানতে জাস্ট আমাদের একটা কল করুন এই নাম্বারে।